
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
১. বর্জ্য কাকে বলে?
উঃ আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার বা ভোগ করার পর অব্যবহারযোগ্য যে আবর্জনা তৈরি হয় সেগুলিকে বর্জ্য পদার্থ বলে?
২. বর্জ্য পদার্থের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।
উঃ বর্জ্য পদার্থের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
১) অব্যবহার যোগ্য।
২) দুর্গন্ধযুক্ত
৩) এর ওজন আছে।
৩. বর্জ্য কয় প্রকার ও কী কী?
উঃ পাঁচ প্রকার। কঠিন, তরল, গ্যাসীয়, বিষাক্ত ও বিষহীন এই পাঁচ প্রকার।
৪. কঠিন বর্জ্য কাকে বলে?
উঃ কঠিন পদার্থে গঠিত যে সমস্ত দ্রব্য কিছুদিন ব্যহারের পর ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে সেই সমস্ত দ্রব্যকে কঠিন বর্জ্য বলে। যেমন- ভাঙা বা পুরানো কাঠ, প্লাই, প্লাস্টিক, কাচ, বাড়ির ভাঙা দ্রব্য ইত্যাদি।
৫. কঠিন বর্জ্যের উৎস কী?
উঃ গৃহস্থালী ও কারখানার আবর্জনা।
৬. তরল বর্জ্য কাকে বলে?
উঃ প্রকৃতিতে উপস্থিত যে সমস্ত তরল ব্যবহারের অযোগ্য সেগুলিকে তরল বর্জ্য বলে। যেমন – গৃহস্থালির ব্যবহারের পর পরিত্যক্ত জল, কারখানার পরিত্যক্ত জল, পয়ঃপ্রণালীর নোংরা জল ইত্যাদি।
৭. গ্যাসীয় বর্জ্য কাকে বলে?
উঃ যে সব গ্যাসীয় পদার্থ মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীজগতের জন্য ক্ষতিকর এবং বায়ুমণ্ডলের দূষণমাত্রা বাড়ায় তাদের গ্যাসীয় বর্জ্য বলে। যেমন – মোটর গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বা দাবানলে উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ইত্যাদি।
৮. বিষাক্ত বর্জ্য কাকে বলে?
উঃ যে সব বর্জ্য মানুষ ও প্রাণীদেহে প্রবেশ করে বিপাকীয় কাজে গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং নানারকম রোগ সৃষ্টি করে তাদের বিষাক্ত বর্জ্য বলে। যেমন – সীসা, আর্সেনিক, পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় কণা, DDT, BHC, ইত্যাদি।
৯. বিষহীন বর্জ্য কী?
উঃ প্রকৃতিতে উপস্থিত কঠিন, তরল, গ্যাসীয় যেসমস্ত বর্জ্য পদার্থ সরাসরি জীবমণ্ডলের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বা ক্ষতির মাত্রা কম সেই বর্জ্যগুলিকে বিষহীন বর্জ্য বলে। যেমন – সবজির খোসা, বাথরুমের জল, আচের ধোঁয়া ইত্যাদি।
১০. ল্যাণ্ড ফিল্ড কী?
উঃ কঠিন ও অর্ধ অতল বর্জ্য পদার্থ দ্বারা নিচু ভূভাগ ভরাট করাকে ল্যাণ্ডফিল্ড বলে।
১১. কম্পোস্টিং কাকে বলে?
উঃ জৈব বিশ্লেষ্য বর্জ্য ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিশ্লেষণ করাকে কম্পোস্টিং বলে।
১২. নিকাশী কাকে বলে?
উঃ যে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তরল বর্জ্যগুলি অপসারণ করা হয় তাকে নিষ্কাষণ বা নিকাশী বলে।
১৩. স্কাবার কাকে বলে
উঃ যে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূলত ধোঁয়া ও ধুলো নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয় তাকে স্কাবার বলে।
১৪. গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কবে গৃহীত হয়?
উঃ ১৯৮৫ সালে।
১৫. গ্যাসীয় বর্জ্যের বৈশিষ্ট্য কী?
উঃ ১। গ্যাসীয় বর্জ্য সরাসরি বায়ুমণ্ডলে মেশে।
২। প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্যাসীয় বর্জ্য সরাসরি মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
৩। বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় বর্জ্যের মাত্রা বাড়লে বায়ুর দূষণ মাত্রা বাড়ে।
১৬. বিষাক্ত ও বিষহীন বর্জ্য কী কী?
উঃ বিষাক্ত বর্জ্যগুলি হল – সীসা, জিংক, আর্সেনিক, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় কণা প্রভৃতি।
১৭. পৌরসভার বর্জ্যের উৎসগুলি কী কী?
উঃ ১। পৌরসভার প্রতিটি বাড়ির আবর্জনা।
২। পৌরসভার পয়ঃপ্রণালীর বর্জ্য।
৩। গাড়ি ও রাস্তা ধোয়া জল।
৪। হোটেল রেস্টুরেণ্টের বর্জ্য।
১৮. তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের উৎসগুলি কী কী?
উঃ সীসা, ক্যাডমিয়াম, জিংক, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, সালফিউরিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ইত্যাদি।
১৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝ?
উঃ জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সমস্ত জীবকূলকে রোগের হাত থেকে রক্ষা, পরিবেশ দুষণ ও অবনমন রোধের উদ্দেশ্যে বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার এবং পুনর্নবীকরণ করাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে।
২০. বর্জ্য পদার্থের প্রভাবে কী বৃষ্টি হয়?
উঃ অম্লবৃষ্টি।
২১. কৃষিকার্যের ফলে সৃষ্ট বর্জ্যকে কী বলে?
উঃ কৃষিজ বর্জ্য।
২২. জৈব বর্জ্যের উৎস কী?
উঃ মৃত পশু, মানুষ ও প্রানীর মল মূত্র ও কাটা আগাছা প্রভৃতি।
২৩. জলদূষণে মানুষের শরীরে কোন বিষক্রিয়া হয়?
উঃ আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম ও পারদের বিষক্রিয়া।
২৪. চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য কী? উদাহরণ দাও।
উঃ চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, হাড় ও অস্থি বিভাগ থেকে আসা বর্জ্য ও হাসপাতালের রোগীদের প্রাত্যহিক বর্জ্য প্রভৃতি।
২৫. জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ যেসকল জৈব পদার্থ বিয়োজিত হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় তাদের জৈব ভঙ্গুর পদার্থ বলে। যেমন- সবজি।
২৬. অজৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলতে কী বোঝ?
উঃ যেসকল জৈব পদার্থ বিয়োজিত হয় না তাদের অজৈব ভঙ্গুর পদার্থ বলে। যেমন- ভাঙা কাঁচ।
২৭. গঙ্গা নদীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?
উঃ ১। পৌরসভা ও কারকাখানার তরল বর্জ্য নিষ্কাষণ প্রক্রিয়ায় দূষণ মুক্ত করা।
২। কড়া আইনের দ্বারা কারখানার রাসায়নিক তরল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা।
৩। বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনশ্চক্রীকরণ নীতি কার্যকরী করা।
৪। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রভৃতি কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
২৮. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা উল্লেখ করো।
উঃ সমাজের একজন সদস্য হিসাবে শিক্ষার্থী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন-
১) বাড়ির লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও ঘরে বর্জ্য পৃথকীকরন প্রক্রিয়া চালু করা।
২) শিক্ষার্থী নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং প্রতিষ্ঠানেরফাঁকা জায়গায় কম্পোস্টিং প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে।
৩) বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস ও পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে পারে।
৪) স্কুলের বর্জ্য কাগজ ও অন্যান্য বর্জ্য জাতীয় পদার্থ থেকে খেলনা বা অন্য ব্যবহার্য জিনিস তৈরি করার প্রচেষ্টা করতে পারে।
৫) Use and throw জাতীয় পণ্যের ব্যবহার বর্জন করতে হবে।
২৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 3R নীতি কী?
উঃ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে বোঝায় বর্জ্যবস্তুর উৎপাদন কমানো। এই ব্যবস্থাপনা তিনটি R নীতি প্রয়োগ করা হয়। তিনটি R নীতি হল-
১। Reduce (কমানো)
২। Re-use (পুনর্ববহার)
৩। Recycle (পুনশ্চক্রীকরণ)।

1 Comments
কৃষিজ ও বর্জ্য কাকে বলে
ReplyDelete