
তাপের ঘটনাসমূহ
১. পদার্থের তাপীয় প্রসারণ কাকে বলে?
উঃ তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের প্রসারণ ঘটে, একে পদার্থের তাপীয় প্রসারণ বলে।
২. দ্বি-ধাতবপাত (Bimetallic Strip) কাকে বলে?
উঃ দুটি ভিন্ন ধাতুর একই দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও বেধযুক্ত পাতকে সাধারণ উষ্ণতায় রিভেট করে নিলে যে যুগ্মপাতটি তৈরি হয়, তাকে দ্বি-ধাতবপাত বলা হয়।
৩. একটি দ্বি-ধাতব পাতকে উত্তপ্ত করলে বা শীতল করলে কী ঘটবে?
উঃ দ্বি-ধাতবপাতটি যে দুটি ধাতুর পাত দিয়ে তৈরি সেই দুটি ধাতুর দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক যদি সমান না হয় তাহলে পাতটিকে উতপ্ত বা শীতল করলে পাতটি বেঁকে যাবে। উত্তপ্ত করলে যে ধাতুর দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক বেশি সেটির দৈর্ঘ্যবৃদ্ধি বেশি হবে, ফলে এই পাতটি বেঁকে যাওয়া দ্বি-ধাতবপাতের বাইরের দিকে থাকবে। অন্যদিকে দ্বি-ধাতবপাতটিকে শীতল করলে যে ধাতুর দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক বেশি সেটির সংকোচনও বেশি হবে এবং এক্ষেত্রে পাতটি বেঁকে যাওয়া দ্বি-ধাতবপাতের ভিতরের দিকে থাকবে। কিন্তু যদি ধাতুদুটির দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক সমান হয় তাহলে দ্বি-ধাতবপাতটি সোজা থাকবে।
৪. দ্বি-ধাতবপাতের দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।
উঃ দ্বি-ধাতবপাতের ব্যবহারঃ
(১) অগ্নিসংকেত যন্ত্রে (Fire Alarm): তড়িৎবর্তনীতে একটি দ্বি-ধাতবপাত থাকে। কাছাকাছি কোথাও আগুন লাগলে দ্বি-ধাতবপাতটি উত্তপ্ত হয়ে বেঁকে গিয়ে তড়িৎবর্তনী যুক্ত করে, ফলে কলিং বেল বাজতে থাকে এবং মানুষ সতর্ক হয়ে যায়।
(২) থার্মোস্ট্যাট বা উষ্ণতানিয়ন্ত্রক যন্ত্রে: বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, বৈদ্যুতিক চুল্লি, ঘর গরম রাখার যন্ত্র প্রভৃতিতে থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রে তড়িৎবর্তনীর মধ্যে একটি দ্বি-ধাতবপাত থাকে যা একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় তড়িৎবর্তনীকে সংযুক্ত করে এবং বর্তনীতে থাকা একটি হিটার তাপ উৎপন্ন করে। উষ্ণতা একটি নির্দিষ্ট মানে পৌঁছালে দ্বি-ধাতবপাত বেঁকে গিয়ে বর্তনী ছিন্ন করে, ফলে হিটারের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। উষ্ণতা কমে পূর্বের নির্দিষ্ট মানে ফিরে এলে দ্বি-ধাতবপাতটি পুনরায় বর্তনী সংযুক্ত করে এবং হিটারের ক্রিয়া চালু হয়।
৫. কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক (α) কাকে বলে?
উঃ প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য কোনো কঠিন পদার্থের প্রতি একক দৈর্ঘ্যে যে দৈর্ঘ্য-প্রসারণ হয়, তাকে ঐ পদার্থের রৈখিক প্রসারণ গুণাঙ্ক (Coefficient of Linear Exapasion) বলে।
৬. দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্কের একক কার এককের উপর নির্ভরশীল?
উঃ উষ্ণতার এককের উপর।
৭. কঠিন পদার্থের ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক (β) কাকে বলে?
উঃ প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য কোনো কঠিন পদার্থের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যে ক্ষেত্র প্রসারণ হয়, তাকে ওই পদার্থের ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক (Coefficient of Surface Expansion) বলে।
৮. কঠিন পদার্থের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (γ) কাকে বলে?
উঃ প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য কোনো কঠিন পদার্থের প্রতি একক আয়তনে যে আয়তন প্রসারণ হয়, তাকে ওই পদার্থের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (Coefficient of Volume Expansion) বলে।
৯. α, β ও γ এর মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখ করো।
উঃ α = β⁄2 = γ⁄3
১০. কঠিন পদার্থের α, β ও γ কিসের উপর নির্ভর করে?
উঃ কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক (α), ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক (β) ও আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (γ) এই তিনটি ধর্মই কঠিন পদার্থের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
১১. তরলের আপাত প্রসারণ (Apparent Expansion) ও প্রকৃত প্রসারণ (Real Expansion) বলতে কী বোঝ?
উঃ কোনো তরলকে একটি পাত্রে রেখে উত্তপ্ত করলে পাত্র ও তরল উভয়েরই প্রসারণ হয়। পাত্রের প্রসারণকে অগ্রাহ্য করে তরলের প্রসারণকে বিবেচনা করলে তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলা হয়। পাত্রের প্রসারণ বিবেচনা করে তরলের যে আয়তন প্রসারণ হয়, তাকে তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে। অর্থাৎ তরলের আপাত প্রসারণের সঙ্গে পাত্রের প্রসারণের যে অংশে তরল ছিল (প্রসারণের আগে) সেই অংশের প্রসারণ যোগ করে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে।
১২. তরলের প্রকৃত প্রসারণ ও আপাত প্রসারণের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উঃ তরলের প্রকৃত প্রসারণ = তরলের আপাত প্রসারণ + পাত্রের প্রসারণ।
১৩. তরলের আপাত প্রসারণ গুণাঙ্ক (Coefficient of Apparent Volume Expansion) কাকে বলে?
উঃ প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য 0°C উষ্ণতায় নির্দিষ্ট ভরের কোনো তরলের একক আয়তনে যে আপাত প্রসারণ হয়, তাকে ঐ তরলের আপাত প্রসারণ গুণাঙ্ক বলে।
১৪. তরলের প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্ক (Coeficient of Real Volume Expansion) কাকে বলে?
উঃ প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য 0°C উষ্ণতায় নির্দিষ্ট ভরের কোনো তরলের একক আয়তনে যে প্রকৃত প্রসারণ হয়, তাকে ঐ তরলের প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্ক বলে।
১৫. তরলের প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্ক ও আপাত প্রসারণ গুণাঙ্কের মধ্যে কোন্টি তরলের নিজস্ব ধর্ম?
উঃ প্রকৃত আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক।
১৬. সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলে তরলের প্রসারণ গুণাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উঃ তরলের প্রসারণ গুণাঙ্কের মান সেলসিয়াস ও কেলভিন স্কেলে সমান, কিন্তু ফারেনহাইট স্কেলে কেলভিন ও সেলসিয়াস স্কেলের 5⁄9 গুণ।
১৭. গ্যাসের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক কাকে বলে?
উঃ স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের উষ্ণতা 0°C থেকে 1°C বৃদ্ধি করলে তার প্রতি একক আয়তনে যে আয়তন বৃদ্ধি হয়, তাকে অই গ্যাসের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক বলে।
১৮. গ্যাসের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্কের (γ) মান কত?
উঃ 1⁄273 °C-1।
১৯. ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ কাকে বলে? পরিবেশে এর প্রভাব কি?
উঃ সাধারণত উষ্ণতা বৃদ্ধিতে তরলের আয়তন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু 0°C থেকে 4°C পর্যন্ত উষ্ণতার ব্যবধানে উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে জলের আয়তন হ্রাস পায়, যা অন্যান্য তরল থেকে আলাদা হয়। এই ঘটনাকে জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে।
শীতপ্রধান দেশে নদ-নদী, সমুদ্র, হ্রদ প্রভৃতি জলাশয়ের জল জমে বরফ হয়ে গেলেও মাছ, বা অন্যান্য জলচর প্রাণীরা জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের জন্য বেঁচে থাকে। ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের জন্য 4°C উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক (আয়তন সর্বনিম্ন) হয়। ফলে 4°C উষ্ণতার জল অন্যান্য উষ্ণতার জলের চেয়ে ভারী হয়। শীতপ্রধান দেশে জলাশয়ের উষ্ণতা কমতে কমতে 4°C-এ পৌঁছালে জল সবচেয়ে ভারী হয়। এরপর জলাশয়ের উপরিভাগের জল আরও শীতল হলে তা নীচের জলের তুলনায় হালকা হওয়ায় আর নীচে নামতে পারে না। ফলে উপরিভাগের জল আরও শীতল হয়ে 0°C উষ্ণতায় বরফে পরিণত হয়। জলাশয়ের নীচের দিকের জল তখনও তরল থাকে। এই অবস্থায় উপরিভাগে জমা বরফ জলের ওপর ভাসতে থাকে। বরফ তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় নীচের জলের উষ্ণতা আর কমতে পারে না এবং তা তরলই থেকে যায়, ফলে জলচর প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে।
২০. ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ দেখায় এমন একটি পদার্থের নাম করো।
উঃ জল।
২১. তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
উঃ ক্যালোরিমিটার।
২২. তাপ সঞ্চালন বলতে কী বোঝ?
উঃ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাপের চলাচলকে তাপ সঞ্চালন বলে।
২৩. কী কী উপায়ে তাপ সঞ্চালন হয়?
উঃ তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি আছে। যথা-(১) পরিবহন, (২) পরিচলন, ও (৩) বিকিরণ।
২৪. পরিবহন (Conduction) কাকে বলে?
উঃ যে পদ্ধতিতে কোনো পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয় কিন্তু পদার্থের অণুগুলির স্থান পরিবর্তন হয় না, তাকে পরিবহণ বলে।
উদাহরণঃ কঠিন পদার্থের মধ্যে তাপ সঞ্চালিত হয় পরিবহন পদ্ধতিতে।
২৫. পরিচলন (Convection) কাকে বলে?
উঃ যে পদ্ধতিতে কোনো পদার্থের উত্তপ্ত কণাগুলি নিজেরাই স্থান পরিবর্তন করে উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ পরিবহন করে তাকে পরিচলন বলে।
উদাহরণঃ তরল ও গ্যাসীয় পদার্থে পরিচলন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।
২৬. বিকিরণ (Radiation) কাকে বলে?
উঃ যে পদ্ধতিতে তাপ কোনো জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়া বা মাধ্যম থাকলেও মাধ্যমকে উত্তপ্ত না করে উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বিকিরণ বলে।
উদাহরণ-সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
২৭. কঠিন পদার্থে তাপ কোন্ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়?
উঃ পরিবহন পদ্ধতিতে।
২৮. তাপ সঞ্চালনের সময় মাধ্যমের অণুগুলির স্থানচ্যুতি ঘটে না যে পদ্ধতিতে তার নাম কী?
উঃ পরিবহন পদ্ধতি।
২৯. পদার্থের তাপ পরিবহন ক্ষমতাকে কী বলে?
উঃ তাপ পরিবাহিতা (Thermal Conductivity)।
৩০. তাপের সুপরিবাহী কাকে বলে?
উঃ যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহন করতে পারে তাদের সুপরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন-প্রায় সমস্ত ধাতু, যেমন-সোনা, রূপা, তামা ইত্যাদি, অধাতু-হিরে।
৩১. তাপের কুপরিবাহী কাকে বলে?
উঃ যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহন করতে পারে না তাদের কুপরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন-কাঠ, কাচ, কাগজ, রাবার, তুলো, কর্ক, মোম, বায়ু, বিশুদ্ধ জল ইত্যাদি।
৩২. একটি আদর্শ কুপরিবাহীর নাম লেখো।
উঃ শূন্যস্থান।
৩৩. দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্কের একক দৈর্ঘ্যের এককের ওপর নির্ভর করে না কেন?
উঃ দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্কের সংজ্ঞানুযায়ী,
দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক (α) = দৈর্ঘ্য প্রসারণ/(প্রাথমিক দৈর্ঘ্য × উষ্ণতা বৃদ্ধি)
দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্কের রাশিমালাটি দেখলে আমরা দেখতে পাই দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক দুইটি দৈর্ঘ্যের অনুপাত। তাই দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্কের একক দৈর্ঘ্যের এককের উপর নির্ভর করে না, কিন্তু তাপমাত্রার এককের উপর নির্ভর করে।
৩৪. ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক ও আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্কের অনুপাত কত?
উঃ ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক (β) : আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (γ) = 2 : 3
৩৫. পরিবাহিতাঙ্ক কাকে বলে?
উঃ কোন পদার্থের একক বেধ ও একক ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট একটি পাতের দুই বিপরীত পৃষ্ঠের উষ্ণতার পার্থক্য এক ডিগ্রি হলে পাতের একপৃষ্ঠ থেকে অপর পৃষ্ঠে লম্বভাবে এক সেকেণ্ডে যে পরিমাণ তাপ পরিবাহিত হয় তাকে ওই পদার্থের তাপ পরিবাহিতাঙ্ক বলে।
৩৬. পরিবাহীর তাপ পরিবাহিতাঙ্ক কিসের ওপর নির্ভর করে।
উঃ পদার্থের প্রকৃতির (উপাদানের) ওপর নির্ভর করে।
৩৭. তাপের সুপরিবাহী একটি তরল পদার্থের উদাহরণ দাও।
উঃ পারদ।
৩৮. শূন্যস্থানের তাপ পরিবাহিতাঙ্কের মান কত?
উঃ শূন্য।
৩৯. তাপ পরিবাহিতাঙ্কের CGS একক কী?
উঃ ক্যালোরি/সেমি °C সেকেণ্ড।
৪০. তাপ পরিবাহিতাঙ্কের SI একক কী?
উঃ জুল/মিটার K সেকেণ্ড।
৪১. কোন ধাতুর তাপ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?
উঃ রূপার (Ag) ।
৪২. উচ্চ তাপ পরিবাহিতাবিশিষ্ট একটি অধাতুর নাম করো।
উঃ হীরক।
৪৩. হীরা ও রূপার মধ্যে কোনটি তাপের অধিক সুপরিবাহী?
উঃ হীরা।
৪৪. তাপ পরিবাহিতাঙ্কের (k) মাত্রীয় সংকেত কত?
উঃ k-এর মাত্রা = [MLT-3K-1]।
৪৫. ডেভির নিরাপত্তা বাতির মূলনীতি কী?
উঃ পূর্বে কয়লাখনিতে ব্যবহৃত ডেভির নিরাপত্তা বাতিতে আগুনের শিখার চারপাশে তামার তারজালির বেষ্টনী থাকত। তামার তারজালি তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় আগুনের তাপকে দ্রুত চারদিকে পরিবাহিত করে দেয়। ফলে বাতির বাইরের উষ্ণতা খনির মধ্যে হঠাৎ বেরোনো দাহ্য গ্যাসের জ্বলনবিন্দুতে পৌঁছাতে পারত না। ফলে খনির মধ্যে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকত না।
৪৬. একটি লোহার চেয়ার ও একটি কাঠের চেয়ার গরমকালে রৌদ্রে রেখে দিলে কোন্টি বেশি উত্তপ্ত মনে হবে?
উঃ একটি লোহার চেয়ার ও একটি কাঠের চেয়ারকে গরমকালে রৌদ্রে রেখে দিলে উভয়ের উষ্ণতা সমান হলেও স্পর্শ করলে লোহার চেয়ারটিকে বেশি উত্তপ্ত মনে হয়। কারণ লোহা, কাঠ অপেক্ষা তাপের সুপরিবাহী, তাই লোহায় হাত দিলে তার মধ্যে থাকা তাপ বেশি পরিমাণে আমাদের দেহে পরিবাহিত হয় (সাধারণত গরমকালে আমাদের শরীর পরিবেশের থেকে ঠান্ডা থাকে) এবং আমাদের গরম মনে হয়।
৪৭. কাচের শিশির মুখে ধাতব ছিপি জোর এঁটে গেলে সেটিকে কী করে খোলা হয়?
উঃ কাচের শিশির মুখে ধাতব ছিপি জোর এঁটে গেলে ছিপিটিকে সামান্য গরম করলে তা সহজে খুলে যায়। কারণ গরম করলে কাচের তুলনায় ধাতুর প্রসারণ বেশি হয়। তাই ধাতব ছিপিটিকে গরম করলে সেটি প্রসারিত হয়, কিন্তু কাচের প্রসারণ প্রায় হয় না বললেই চলে। ফলে ছিপিটি শিশির মুখ থেকে আলগা হয়ে যায়।
৪৮. কেটলির হাতলে বেত জড়ানো থাকে কেন?
উঃ কেটলি সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের (ধাতু) তৈরি এবং অ্যালিমিনিয়াম তাপের সুপরিবাহী। ফলে তাপ দিলে কেটলির জল তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়। সেই সঙ্গে কেটলির হাতলও গরম হয়ে যায় এবং হাত দিয়ে হাতলটিকে ধরা যায় না। বেত তাপের কুপরিবাহী। তাই হাতলে বেত জড়ানো থাকলে তার মধ্যে দিয়ে তাপ আমাদের হাতে এসে পৌঁছায় না। ফলে আমাদের গরম (ছ্যাঁকা) লাগে না।
৪৯. তামার কোন্ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ডেভির নিরাপত্তা বাতি তৈরি করা হয়েছিল?
উঃ তামার সুপরিবাহিতা ধর্মকে কাজে লাগিয়ে।
৫০. টিনের ছাদযুক্ত বাসগৃহ গরমকালে অত্যধিক গরম ও শীতকালে বেশি ঠান্ডা মনে হয় কেন?
উঃ সাধারণত গরমকালে ঘরের বাইরের পরিবেশ ঘরের থেকে গরম থাকে, অন্যদিকে শীতকালে ঘরের বাইরের পরিবেশ ঘরের থেকে ঠান্ডা থাকে। টিন তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় গরমকালে বাইরের তাপকে বেশি পরিমাণে ঘরের মধ্যে পরিবাহিত করে তাই ঘর উত্তপ্ত মনে হয়। অন্যদিকে শীতকালে ঘরের তাপকে বাইরের শীতল পরিবেশে পরিবাহিত করে, তাই ঘর ঠান্ডা মনে হয়।
৫১. শীতকালে কাঠের দরজায় হাত দিলে কম ঠান্ডা মনে হয়, কিন্তু ধাতব হাতলে হাত দিলে বেশি ঠান্ডা মনে হয় কেন?
উঃ শীতকালে কাঠের দরজায় হাত দিলে কম ঠান্ডা মনে হয়, কিন্তু ধাতব হাতলে হাত দিলে বেশি ঠান্ডা মনে হয়। কারণ কাঠের তুলনায় ধাতু তাপের সুপরিবাহী। তাই ধাতব হাতলে হাত দিলে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণ তাপ আমাদের শরীর থেকে হাতলে সঞ্চালিত হয় (সাধারণত শীতকালে আমাদের শরীর বাইরের পরিবেশ অপেক্ষা গরম থাকে), তাই ধাতব হাতলটি বেশি ঠান্ডা মনে হয়।
৫২. শীতকালে কার্পেটের মেঝের তুলনায় পাথরের মেঝে বেশি ঠান্ডা মনে হয় কেন?
উঃ শীতকালে কার্পেটের মেঝের তুলনায় পাথরের মেঝে বেশি ঠান্ডা মনে। কারণ কার্পেটের তুলনায় পাথর তাপের সুপরিবাহী। তাই পাথরে পা দিলে কাঠের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণ তাপ আমাদের শরীর থেকে পাথরে পরিবাহিত হয় (সাধারণত শীতকালে আমাদের শরীরের উষ্ণতা বাইরের পরিবেশ অপেক্ষা বেশি থাকে) । তাই পাথরের মেঝে কাঠের মেঝে অপেক্ষা বেশি ঠান্ডা মনে হয়।
৫৩. গোরুর গাড়ি বা ঠেলা গাড়ির চাকার লোহার বেড় চাকার চেয়ে সামান্য ছোটো করা হয় কেন?
উঃ গোরুর গাড়ি বা ঠেলা গাড়ির চাকায় লোহার বেড় পরাবার সময় বেড়ের ব্যাস ছোটো চাকার ব্যাসের চেয়ে থাকে। বেড়কে উত্তপ্ত করলে সেটি প্রসারিত হয়। প্রসারিত অবস্থায় সেটি চাকার গায়ে ঠিক এঁটে যায়। পরে বেড়টি ঠান্ডা হলে সেটির সংকোচন হয় এবং বেড়টি চাকার গায়ে দৃঢ়ভাবে আটকে যায়।
৫৪. একই আয়তনের একটি তামার পাত এবং একটি লোহার পাতকে রিভেট করে যুক্ত করা হল। এই সমবায়টিকে উত্তপ্ত করলে কী ঘটবে তা ব্যাখ্যা করো।
উঃ তামা ও লোহার যুগ্ম পাতটিকে উত্তপ্ত করলে পাতটি সোজা না থেকে বেঁকে যাবে।
তামা ও লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক সমান হলে পাতটি সোজা থাকত। কিন্তু তামার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক লোহার চেয়ে বেশি বলে তামার পাতের দৈর্ঘ্যবৃদ্ধি বেশি হবে। এই অসম প্রসারণের ফলে দৃঢ়ভাবে যুক্ত পাত দুটি দিয়ে তৈরি যুগ্ম পাতটি বেঁকে যাবে এবং তামার পাতটি বাইরের দিকে থাকবে।
৫৫. লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক 0.000012/°C বলতে কী বোঝ?
উঃ লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক 0.000012/°C বলতে বোঝায় যে, 1 সেমি বা 1 ফুট বা 1 মিটার দীর্ঘ লোহার দণ্ডের উষ্ণতা 1°C বৃদ্ধি করলে দণ্ডটির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে 0.000012 সেমি বা 0.000012 ফুট বা 0.000012 মিটার বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ
লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক 0.000012/°C বলতে বোঝায় যে, একক দৈর্ঘ্যের লোহার দণ্ডের উষ্ণতা 1°C বৃদ্ধি করলে দণ্ডটির দৈর্ঘ্য 0.000012 একক বৃদ্ধি পাবে।
৫৬. কোনো তরলপূর্ণ পাত্রকে যখন হঠাৎ উত্তপ্ত করা হয় তখন তরলের তল প্রথমে কিছুটা নেমে যায়, কিন্তু পরে আবার ওপরে ওঠে-ব্যাখ্যা করো।
উঃ তরলপূর্ণ পাত্রকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে প্রথমে পাত্র তাপ পেয়ে আয়তনে প্রসারিত হয়। পাত্রের তরলের উষ্ণতার বিশেষ পরিবর্তন হয় না, তাই তার আয়তন মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকে। সেজন্য পাত্রে তরলের তল কিছুটা নেমে যায়। কিন্তু ক্রমাগত তাপ দিতে থাকলে পাত্রের তরল ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় এবং আয়তনে প্রসারিত হয়। সাধারণত কঠিন অপেক্ষা তরলের প্রসারণ বেশি তাই কিছুক্ষণ পর তরলের তল ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
৫৭. তামার তাপ পরিবাহিতাঙ্ক 0.92 CGS unit বলতে কি বোঝ?
উঃ ‘তামার তাপ পরিবাহিতাঙ্ক 0.92 CGS unit’ বলতে বোঝায় যে এক সেন্টিমিটার বেধ ও এক বর্গ সেন্টিমিটার ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট একটি তামার পাতের দুই বিপরীত পৃষ্ঠের উষ্ণতার পার্থক্য 1°C হলে এক সেকেন্ড সময়ে 0.92 ক্যালোরি তাপ উষ্ণপৃষ্ঠ থেকে শীতলপৃষ্ঠে লম্বভাবে প্রবাহিত হবে।

1 Comments
তাপ কাকে বলে
ReplyDelete